নারায়ণগঞ্জ নগরে যানজট নিয়ন্ত্রণে ইজিবাইক ও ব্যাটারিচালিত রিকশা প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন। ফলে সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল-আদমজী-চাষাড়া সড়কে বন্ধ হয়ে যায় ইজিবাইক চলাচল। এতে করে ভোগান্তিতে পড়েছে এ সড়কের যাত্রীরা।
এদিকে অটোরিকশা শহরে প্রবেশ করতে না দেয়ায় নারায়ণগঞ্জ শহর ও সিদ্ধিরগঞ্জে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন ইজিবাইক চালকরা। মঙ্গলবার সকালে নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া ও সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় তাদের বিক্ষোভ করতে দেখা যায়।
এসময় ইজিবাইক চালকরা অভিযোগ করেন, গত ৫ আগষ্টের পর পুলিশ কোন ইজিবাইক নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষড়া ও কালিরবাজার প্রবেশে বাধা দেয়নি। তাছাড়া বিভিন্ন ভূঁইফোড় গণমাধ্যমের নামে যে চাঁদাবাজি হতো সেটাও বন্ধ রয়েছে। এতে করে নির্বিঘ্নে তারা চলাচল করতে পারতো। কিন্তু সম্প্রতি জেলা পুলিশ ও সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ইজিবাইক নগরীতে প্রবেশ করতে পারবে না। আদেশ অমান্য করে প্রবেশ করলে ইজিবাইক আটক করা হবে এবং জরিমানা করা হবে ৫ হাজার টাকা। তবে ইজিবাইক নগরীর খানপুর পর্যন্ত চলাচল করতে পারবে বলে চালকদের জানানো হয়েছে।
এদিকে সিটি করপোরেশনের এমন সিদ্ধান্তে ধর্মঘট ডেকেছে ব্যাটারি চালিত রিক্সাচালকরা। তারা জানান, আমরা রিক্সা চালানো বন্ধ রেখেছি। যতক্ষণ আমরা কোন সমাধান না পাবো ততক্ষণ ইজিবাইক চলাচল বন্ধ থাকবে।
এতে বিকল্প উপায়ে কেউ কর্মস্থল বা গন্তব্যে যেতে চাইলে তাদেরকেও আটকে দেয়া হচ্ছে। এই সড়কের উভয়পাশে রয়েছে ইপিজেডসহ অসংখ্য সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। রয়েছে অসংখ্য স্কুল কলেজ। ইজিবাইক চালকদের বাধার কারণে শিক্ষার্থী, গার্মেন্টকর্মীসহ অন্যান্য চাকুরীজীবিরা তাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মস্থলে যেতে পারেনি।
এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) রুহুল আমিন সাগর বলেন, একজন ইজিবাইক চালক সারাদিনে কতো টাকা আয় করে! তাদের কাছ থেকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা আদায়ের তথ্যটি সঠিক নয়। আমরা নগরীর যানজট নিরসনে তাদের নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছি। তাদের চলাচল বন্ধ করছি না। নগরীর একটি নির্দিষ্ট এলাকা পর্যন্ত তাদের সীমানারব বেধে দেয়া হচ্ছে। চাষাড়ায় প্রবেশের ক্ষেত্রে তাদের আটক করা হচ্ছে। কখনো একদিন বা দুদিন আটকে রেখে এমনিতেই ছেড়ে দেয়া হচ্ছে। আবার কখনো সর্ব্বোচ্চ ৫শত টাকা জরিমানা করা হচ্ছে।
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাকির হোসেন বলেন, নগরীতে প্রবেশের ক্ষেত্রে আমরা অবৈধ ইজিবাইকগুলোকে ৩ হাজার টাকা জরিমানা করছি। ইজিবাইকের কি কোন বৈধতা আছে এমন প্রশ্নের জবাবে এই কর্মকর্তা বলেন, সেটি নেই।
তিনি আরও বলেন, পূর্বে পায়ে চালিত রিক্সারগুলো চলাচলে সিটি করপোরেশনের অনুমোদন ছিলো এবং লাইসেন্স দেয়া হতো। সেই লাইসেন্সগুলোকে কেউ চাইলে ব্যাটারি চালিত দ্বি-আসন বিশিষ্ট বাহনগুলোর জন্য কনভার্ট করে নিতে পারবে। এর বাইরে অন্যান্য সব ইজিবাইক অবৈধ হিসেবে পরিগণিত হবে। অবৈধ ইজিবাইক চালকরাই আন্দোলন করছে।
আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...