‘ভাড়ায়’ বার্জ এনে কাটা হলো বিএনপি নেতার ডকইয়ার্ডে, মামলা
  1. rakibchowdhury877@gmail.com : Narayanganjer Kagoj : Narayanganjer Kagoj
  2. admin@narayanganjerkagoj.com : Narayanganjer Kagoj : Narayanganjer Kagoj
‘ভাড়ায়’ বার্জ এনে কাটা হলো বিএনপি নেতার ডকইয়ার্ডে, মামলা
বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬, ০৫:২০ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
ফতুল্লা প্রেসক্লাবে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন ফতুল্লায় এনসিপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ১ সিদ্ধিরগঞ্জে অস্ত্র-ইয়াবা-হেরোইনসহ ১০ জন গ্রেপ্তার গুলি ও ম্যাগাজিন সহ বিদেশি পিস্তল উদ্ধার সিদ্ধিরগঞ্জে ব্যালট পেপার খোলা নিয়ে উত্তেজনা, গুজব বলছে প্রশাসন দলিল লেখক রফিকের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ ভোটকেন্দ্রে বাদাম-বিস্কুট-কলা খাওয়াসহ যেসব কাজ করতে পারবে না পুলিশ নির্বাচনের সব প্রস্তুতি চূড়ান্ত, বড় ধরনের ঝুঁকির আশঙ্কা নেই : ডিসি নারায়ণগঞ্জে সাড়ে ২৩ লাখ ভোটারের নিরাপত্তায় ১৩ হাজার ফোর্স গিয়াসউদ্দিনকে সংযত হয়ে কথা বলার আহবান কাসেমীর ধলেশ্বরী নদীতে ইটবাহী ট্রলার ডুবি পার্লারের টয়লেটে মিললো নিখোঁজ নারী উদ্যোক্তার লাশ ভোটাররা নির্ভয়ে ভোট দিতে পারবেন : ডিসি ফতুল্লায় মৎসজীবী দলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ৩ ফতুল্লায় এক কেজি গাঁজাসহ গ্রেফতার ২

‘ভাড়ায়’ বার্জ এনে কাটা হলো বিএনপি নেতার ডকইয়ার্ডে, মামলা

নারায়ণগঞ্জের কাগজ ডেস্ক
  • প্রকাশিত সময় : বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২৫
‘ভাড়ায়’ বার্জ এনে কাটা হলো বিএনপি নেতার ডকইয়ার্ডে, মামলা

নারায়ণগঞ্জে সোনারগাঁয়ে ‘ভুয়া মালিক সেজে’ এক বিএনপি নেতার ডকইয়ার্ডে একটি নৌযান (বার্জ) কেটে ফেলার ঘটনায় মামলা হয়েছে। বাদীর অভিযোগ, তার মালিকানার নৌযানটি ভাড়া নিয়ে অনুমতি ছাড়াই কেটে ফেলেছেন এক ব্যক্তি।

বিষয়টি জানার পর গত সোমবার সোনারগাঁ থানায় মামলাটি করেন নৌযানটির মালিক রাকেশ শর্মা। তিনি চট্টগ্রামের রাউজানের আন্ধারমানিকের বাসিন্দা। মামলায় সাতজনকে আসাীঃ করা হয়েছে।

তারা হলেন- চট্টগ্রামের চাঁন্দগাঁও থানার সরালিয়াপাড়ার মোঃ শফিউল্লাহ’র ছেলে মোহাম্মদ জাফর (৪২), শাহাদাত (৩৫), সোনারগাঁয়ের বাসিন্দা ইকবাল (৪২), নোয়াখালীর হাতিয়ার চরবগুলার ইমানুল হকের ছেলে নজরুল ইসলাম (৪৭), রাজধানীর মিরপুর শেওড়াপাড়ার গোলাম মোস্তফার ছেলে এমদাদুল হক, জাফর ও হোসেন (৩৫)।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, তাদের মধ্যে দুই নম্বর আসামী শাহাদাত হোসেন জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি। তিনি এইচবি হারুন অ্যান্ড ব্রাদার্স মেঘনা শিপইয়ার্ড নামে ডকইয়ার্ডের মালিক সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও পিরোজপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামের ছেলে।

এ ঘটনায় মঙ্গলবার মামলার ৪ নম্বর আসামি নজরুল ইসলামকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে বলে জানান সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশেদুল ইসলাম।

মামলার এজাহারের বরাতে তিনি বলেন, “নৌযানটির মালিক মূলত চট্টগ্রামের বাসিন্দা রাকেশ শর্মা। তার কাছ থেকে নৌযানটি ভাড়া নিয়েছিলেন এক নম্বর অভিযুক্ত ব্যক্তি মোহাম্মদ জাফর। কিন্তু তিনি মালিককে না জানিয়েই সেটি ডকইয়ার্ডে কেটে ফেলেন।”

মামলার এজাহারে বাদী রাকেশ শর্মা উল্লেখ করেছেন, এক নম্বর বিবাদী জাফর তার পরিচিত এবং তিনি বিভিন্ন সময় পণ্য পরিবহনের জন্য ‘মালেক শাহ কুতুবদিয়া’ নামে নৌযানটি ভাড়ায় নিতেন। গত ১ নভেম্বর এক মাসের জন্য ৭ লাখ ২০ হাজার ভাড়ার চুক্তিও করেন। পরে চট্টগ্রামের সদরের কর্ণফুলি নদীর বাকলিয়ার চরঘাট থেকে নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁয়ের মেঘনা নদীর তীরে এইচবি হারুন অ্যান্ড ব্রাদার্স মেঘনা শিপইয়ার্ডে নিয়ে যান।

গত ২৩ নভেম্বর দুপুরে এক শ্রমিকের মাধ্যমে তিনি নৌযানটি কেটে ফেলার তথ্য পান এবং রাতেই সেখানে যান। তার নৌযানটি কেটে ফেলায় ১ কোটি ৭ লাখ টাকার মতো ক্ষতি হয়েছে। অভিযুক্তরা নৌযানটি কেটে বিক্রি করার পরিকল্পনা করেছিলেন বলেও মামলায় অভিযোগ করেন রাকেশ।

মুঠোফোনে তিনি বলেন, “আমি প্রথমে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে কল করে পুলিশ নিয়ে সেখানে যাই এবং আমার জাহাজটি কেটে ফেলায় পরে মামলা করি। আমি নিজে মালিক হলেও অভিযুক্তরা জাল দলিল বানিয়ে এটিকে কেটে বিক্রি করার পায়তারা করেছিল। একটি চুক্তিনামাও আমি হাতে পেয়েছি যেখানে জাফর ক্রেতা এবং এমদাদুল বিক্রেতা সেজেছেন।”

বিষয়টি নিয়ে সমাধান পেতে নৌযান মালিক সমিতির নেতাদের সঙ্গে বসেছেন বলেও জানান রাকেশ।

তবে, ডকইয়ার্ডের মালিকের ছেলে সাবেক ছাত্রদল নেতা শাহাদাত হোসেনের দাবি, নৌযানটি কাটার জন্য তারা কেবল ডকইয়ার্ডটি ভাড়া দিয়েছেন। অভিযুক্ত মোহাম্মদ জাফর নিজেকে মালিক হিসেবে দেখিয়ে এটি কাটার দায়িত্ব দেন গ্রেপ্তার নজরুলকে।

নৌযানটি ডকইয়ার্ডে রেখে কাটার জন্য ভাড়াবাবদ নজরুলের সঙ্গে ১ লাখ ৬০ হাজার চুক্তিও করেন বলে জানান শাহাদাত।

“আমরা অনেক বছর ধরে ডকইয়ার্ড ব্যবসার সঙ্গে আছি। আমরা কখনো কোনো অনিয়মের সঙ্গে যাইনি। আমরা কেবল ডকইয়ার্ডটি ভাড়া দিয়েছি। তারা বলেছিল, জাহাজের তলা ফেটে গেছে, তাই এটি কাটতে হবে। জাহাজের মালিক হিসেবে জাফর আমাদের কাগজপত্রও দেখিয়েছেন কিন্তু এইসব তো আর আমরা বিআইডব্লিউটিএ’র মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করতে যাইনি। তাছাড়া জাহাজটি কাটার কাজও করেছে নজরুল তার লোকজনের মাধ্যমেই। বিষয়টি জানার পরে আমরা নিজেরাই নজরুলকে পুলিশের হাতে তুলে দেই।”

এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তাকে আসামি করার কথাও গণমাধ্যম মারফত জানতে পেরেছেন বলে দাবি করেন শাহাদাত। “জাহাজ কাটার সঙ্গে সম্পৃক্ততা না থাকলেও” রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের লোকজনের ইন্ধনে ঘটনাটিতে তাদের ফাঁসানো হয়েছে বলেও অভিযোগ তার।

এ বিষয়ে সোনারগাঁ থানার ওসি রাশেদুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি আমরা তদন্ত করছি। উভয়পক্ষের কাগজপত্র যাচাই-বাছাইয়ের পর জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

নিউজটি শেয়ার করুন :

আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..