নানা অভিযোগে অভিযুক্ত এনসিসি ১০ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইফতেখার আলম খোকন আবারো বিতর্কে জড়ালেন চৌধুরীবাড়ি বনিক সমিতির সদস্যদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে। নিজের ওয়ার্ড ছেড়ে অন্য ওয়ার্ডে গিয়ে মাতুব্বরী করাটাকে আড় চোখে দেখছেন ব্যবসায়ীবৃন্দ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চৌধুরীবাড়ি বনিক সমিতির অনেক ব্যবসায়ী জানান, আমাদের এ বনিক সমিতিকে প্রায় ১২ বছর যাবত কজ¦া করে রেখেছেন মহসিন ভুইয়া। যা নিয়ে ব্যবসায়ীরা স্থানীয় কাউন্সিলর রুহুল আমিন মোল্লার স্বরনাপন্ন হলে তিনি উক্ত বাজার সমিতির আহবায়ক কমিটির ঘোষনা দিয়ে নির্বাচনের জন্যও প্রস্তুতি নিতে বলেছেন ব্যবসায়ীদের। কিন্তু উড়ে এসে জুড়ে বসে কাউন্সিলর খোকন একজন সমিতিকে কুক্ষিগত করে রাখা মহাসিন ভুইয়ার পক্ষালম্বন করায় ক্ষুদ্ধ হয়ে উঠেছে সকল ব্যবসায়ী। ব্যবসায়ীরা জানান, কাউন্সিলর খোকন সাংসদ শামীম ওসমানের নাম ব্যবহার করে ভুমিদস্যুতার মত অপরাধেও জড়িত হয়েছেন এবং রাতের আধারে সরকারী জলাধারও ভরাটের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। নিজের ওয়ার্ডবাসীকে ত্যক্ত-বিরক্ত করে এখন ৮ নং ওয়ার্ডে গিয়ে মোড়ল সাজার চেষ্টা করছেন। তারা আরও বলেন, খোকন ৬নং ওয়ার্ডে গিয়েও নিজেকে মোড়ল বানাতে বিভিন্ন অপকর্ম করছেন। বার্মাশীল এলাকায় চোরাই তেল ব্যবসায়ীদের কাছ থেকেও নাকি নিয়মিতভাবে মাসোহারা সংগ্রহ করেন এ কাউন্সিলর খোকন। ৭নং ওয়ার্ডে নাভানা সিটিতে গিয়ে কয়েক প্লট সংক্রান্ত বিষয়ে নাকি জমির মালিকদের সাথে বিতর্কে জড়িয়েছেন এ খোকন। মোটকথা কাউন্সিলর খোকনের অত্যাচারে নিজ ওয়ার্ডবাসী ছাড়াও অন্যান্য ওয়ার্ডবাসী ত্যক্ত-বিরক্ত হয়ে উঠেছে।
মহাসিন ভুইয়া সর্ম্পকে বাসষ্ট্যান্ড মসজিদ কমিটির সভাপতি মুন্না বলেন, তিনি মসজিদ কমিটির উন্নয়নের টাকাও লুটেপুটে খাচ্ছেন। দলের নাম বিক্রি করে মহসিন বুইয়া যে সমস্ত অপকর্ম করে বেড়াচ্ছেন তার দায় দল নেবে কেন ?
কাউন্সিলর খোকনের বক্তব্যকে সাংঘর্ষিক বলে উল্লেখ করে ব্যবসায়ীরা বলেন, তিনি বলেছেন যে যতদিন দল ক্ষমতায় থাকবে ততদিন নাকি মহসিন ভুইয়া কমিটির সভাপতি থাকবে। তাহলে এটা কি তাদের উভয়ের পৈতৃক সম্পত্তি নাকি।
৮নং ওয়ার্ডের আওয়ামীলীগের এক প্রবীন নেতা বলেন, কাউন্সিলর খোকনের নিজ ওয়ার্ডেই মাদক ও ভুমিদস্যুতা ও সন্ত্রাসের অভয়ারন্যে ভরপুর। তিনি তো নিজ ওয়ার্ডকেই সামাল দিতে ব্যর্থ তাহলে আরেকজনের ওয়ার্ডে এসে মাতুব্বরী করার তো কোন প্রয়োজন নেই।
তবে সাধারন ব্যবসায়ীদের দাবী, আমাদের এলাকার সমস্যা সমাধানের জন্য তো আমাদের প্রতিনিধি রয়েছেন। সেখানে দেয়াল টপকিয়ে অন্য ওয়ার্ডে এসে কাউন্সিল খোকন সাহেবতো আর নাক গলাতে পারেনা। আমরা সাধারন ব্যবসায়ীরা এভাবেই মহসিন ভুইয়ার হাতে জিম্মি রয়েছি ১২ বছর যাবত। আমরা চাই তার জিম্মিদশা থেকে মুক্ত হতে। কিন্তু সেখানে তিনি (কাউন্সিলর খোকন) একজন অপরাধীর পক্ষালম্বন করেন কিভাবে। তারা আরও বলেন, এভাবে যদি তিনি আমাদের বনিক সমিতিতে হস্তক্ষেপ করেন তাহলে মহসিন ভুইয়া ও ষ্ট্যান্ড কমিটির সাথে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে এর দায়ভার কাউন্সিলর খোকনকেই নিতে হবে।
আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...