নারায়ণগঞ্জের বন্দরের শীর্ষ সন্ত্রাসী ২২ টি মামলার আসামি সুজনসহ দুইজনকে বিদেশী রিভালবার ও ৭ রাউন্ড গুলিসহ গ্রেফতার করেছে র্যাব-১১। গ্রেফতারকৃত অন্য দুইজন হলেন- মোঃ সুজন (২৯), ও মোঃ রুবেল (৩৫)।
বুধবার (২৮ জানুয়ারী) ভোড় সাড়ে ৩টার সময় বন্দর থানাধীন চাঁনপুর গ্রাম থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয় বলে জানায় র্যাব।
র্যাবের প্রেরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বন্দর ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় শীর্ষ সন্ত্রাসী সুজন ও তার বাহিনী অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড মাধ্যমে আতংকের জনপথ তৈরী করে রেখেছে। সুজনের বিরুদ্ধে মাদক, চাঁদাবাজি, জমিদখল ও আধিপত্য বিস্তারসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে। ঐসব এলাকায় যেকোনো নতুন স্থাপনা নির্মাণের সময় তার বাহিনীকে মোটা অঙ্কের টাকা দিতে হয়। চাঁদা না দিলে কাজ বন্ধ করে দেওয়া এবং মারধরের ঘটনা ছিল নিয়মিত। শীতলক্ষ্যা নদীর তীরের বিভিন্ন পয়েন্টে পণ্যবাহী ট্রলার ও বাল্কহেড থেকে তার বাহিনীর সদস্যরা নিয়মিত চাঁদা আদায় করে। স্থানীয় ছোট-বড় ব্যবসায়ীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে নিয়মিত ‘মাসোহারা’ আদায় করার ও অভিযোগ রয়েছে। সুজন তার বাহিনীর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের পৈতৃক জমি ও ভিটেমাটি জোরপূর্বক দখল করে। ভুক্তভোগীদের ভয় দেখিয়ে নামমাত্র মূল্যে জমি লিখে নেওয়া অথবা পেশিশক্তি ব্যবহার করে উচ্ছেদ করার ঘটনায় সে এলাকায় কুখ্যাত।
বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, আধিপত্য বজায় রাখতে সুজন প্রায়ই আগ্নেয়াস্ত্রধারী সন্ত্রাসী বাহিনী ব্যবহার করে আসছিল। সুজন বাহিনীর ছত্রছায়ায় মদনপুর ও বন্দর এলাকায় মাদকের একটি বিশাল নেটওয়ার্ক গড়ে উঠে। তার সরাসরি তত্ত্বাবধান এলাকায় গাঁজা, ইয়াবা ও ফেন্সিডিল কেনাবেচা হয়। উল্লেখ্য যে, এই শীর্ষ সন্ত্রাসী সুজনের অপরাধ কর্মকান্ড নিয়ে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় ও গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচার হয়েছে।
গ্রেফতারকৃত আসামি সুজনের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর থানায় অস্ত্র, ডাকাতি, খুন সহ অন্তত ২২ টি মামলা রয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানায় র্যাব।
গ্রেফতারকৃতদের বন্দর থানায় হস্তান্তর করে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন বন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিন।
আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...