মানবতার ফেরিওয়ালা কালুখালীর ওসি কামরুল হাসান
  1. rakibchowdhury877@gmail.com : Narayanganjer Kagoj : Narayanganjer Kagoj
  2. admin@narayanganjerkagoj.com : Narayanganjer Kagoj : Narayanganjer Kagoj
মানবতার ফেরিওয়ালা কালুখালীর ওসি কামরুল হাসান
শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬, ০৮:৩০ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
ইফতার মাহফিলে অসহায় মানুষের পাশে ধর্মগঞ্জ সমাজ উন্নয়ন সংসদ নারায়ণগঞ্জে লিংরাজ খানের বন্ধু মহলের উদ্যোগে ঈদ সামগ্রী বিতরণ ফতুল্লা রিপোর্টার্স ক্লাবে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত ফতুল্লায় ছিনতাইকারী দুর্জয়সহ তার বাহিনীকে গ্রেপ্তারের দাবিতে থানা ঘেরাও রমজানে ও.পি.এ’র উদ্যোগে সুবিধাবঞ্চিতদের মাঝে ইফতার বিতরণ ফতুল্লা এসএসসি ২০০০ ব্যাচের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত যানবাহনে জ্বালানি তেল নেওয়ার সীমা বেঁধে দিলো সরকার নারায়ণগঞ্জে ঐক্য পরিষদের ইফতার বিতরণ সদর উপজেলা প্রেসক্লাবের উদ্যোগে ঈদ সামগ্রী ও হুইলচেয়ার বিতরণ ফতুল্লা প্রেসক্লাবে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন ফতুল্লায় এনসিপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ১ সিদ্ধিরগঞ্জে অস্ত্র-ইয়াবা-হেরোইনসহ ১০ জন গ্রেপ্তার গুলি ও ম্যাগাজিন সহ বিদেশি পিস্তল উদ্ধার সিদ্ধিরগঞ্জে ব্যালট পেপার খোলা নিয়ে উত্তেজনা, গুজব বলছে প্রশাসন দলিল লেখক রফিকের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ

মানবতার ফেরিওয়ালা কালুখালীর ওসি কামরুল হাসান

আবুল কালাম আজাদ, রাজবাড়ী প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত সময় : সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২০
মানবতার ফেরিওয়ালা কালুখালীর ওসি কামরুল হাসান

বিশ্বের উন্নত দেশের জনগণ বিপদে-আপদে পুলিশকে পরম বন্ধু হিসাবে দেখে থাকে। বাংলাদেশের পুলিশও জনগণের জানমালের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সহ সেবার প্রত্যয় নিয়ে কাজ করে থাকেন। যদিও স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশের পুলিশ কতটা জনগণের আস্থা অর্জন করতে পেরেছে এ নিয়ে অনেক বিতর্ক রয়েছে। কিছু কিছু পুলিশ কর্মকর্তার অপকর্মের কারণে পুলিশের ভাবমুর্তি ক্ষুন্নও হয়। তবে পুলিশের এমন কিছু কর্মকর্তা রয়েছেন যারা নিজের সুবিধার কথা চিন্তা না করে অসহায় জনগণের পাশে গিয়ে দাঁড়ান। দেশ এবং জনগণের জন্য নিজেকে নিয়োজিত রাখেন। জীবনের ঝুকি নিয়ে জনসাধারণের জন্য কাজ করেন। এ ধরণের পুলিশ কর্মকর্তাদের কর্মকান্ডের কারণে জনগণ পুলিশকে পরমবন্ধু হিসাবে মূল্যায়ন করে থাকে। তারা নিজের বেতনের টাকা ছাড়া একটি টাকাও অন্যায় পথে আয় করেন না। তারা নিজেদের রাখেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে সদা সোচ্চার। এমনই একজন হলেন রাজবাড়ী জেলার কালুখালি থানার অফিসার ইনচার্জ কামরুল হাসান।

তিনি গত ২০১৯ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর দুপুরে রাজবাড়ী জেলার কালুখালি থানার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তার আগে দায়িত্বরত ওসির বিরুদ্ধে ছিল নানা ধরনের দূর্নীতির অভিযোগ। সেই কারণে তার আগের ওসিকে প্রত্যাহার করে তাকে দায়িত্ব দিয়ে কালুখালিতে নিয়ে আসা হয়। তখন এই কর্মবীর শৈল্পিক মানুষটি কালুখালি থানায় যোগদান করেই কালুখালিকে সন্ত্রাস ও মাদক মুক্ত করতে কাজ শুরু করেন। তাই রোদ-বৃষ্টি, ঝড় উপেক্ষা করে কখনো বাঁশের সাঁকো বেয়ে, কখনো ক্ষেতের আলপথ দিয়ে হেঁটে, কখনো ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে তিনি ছুটে চলেন ভৌগোলিকভাবে হাওর-বাঁওড়ে অবস্থিত গ্রাম্যগুলোতে খোঁজ নেন গরীব দুঃখী মানুষের এবং এইসব গ্রামগুলোয় অভিযান চালান মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে। যেখানে আগে কখনো কোনো পুলিশের পায়ের চিহ্ন পড়েনি।

তিনি রাজবাড়ী পুলিশ সুপারের নির্দেশে ছুটে চলেন কালুখালির বিভিন্ন প্রান্তে এবং মানুষের মনে যে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের ভয় ছিল তা দূর করেছেন।

এলাকার গণ্যমান্য সচেতন ব্যক্তিরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন। বাংলাদেশে যদি তার মতো আরো ১০০ জন এরকম নিবেদিতপ্রাণ, দেশপ্রেমিক, সৎ, কর্মবীর কামরুল হাসান থাকত, তাহলে প্রতিটি থানার চিত্রটা পাল্টে যেত এ দেশে।চিরনবীন এই মানুষটি মন ও মননে সব সময় একজন সুচিন্তার মানুষ। শ্রদ্ধা রইল এই সাদামনের উচ্চশিক্ষিত, উদারমনা ও মুক্তচিন্তার মানুষটির জন্য।

তিনি ২০১৯ সালে যখন কালুখালি থানার অফিসার ইনচার্জ এর দায়িত্ব নেন। তারপর থেকেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেমন দেশকে মাদক ও দূর্নীতিকে জিরো টলারেন্স করতে আপ্রান চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে কালুখালি উপজেলাকে দূর্নীতি ও মাদক এবং সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষনা করেছেন। নিজেকে দূণীতির উদ্ধে রেখে স্বজনপ্রীতি, দলীয়করণসহ অপরাধীদের বিরদ্ধে রয়েছেন সোচ্চার ও কঠোর। ঘুষ এবং দূর্নীতিকে না বলে, তা থেকে নিজেকে রেখেছেন অনেক দূরে। বিভিন্ন দলীয় চাপ থাকার পরেও কখনও তিনি তার কর্তব্য থেকে এতটুকু বিচ্ছুতি হননি। তিনি সকলের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখে কালুখালি থানাকে একটি আদর্শ থানা তৈরী করতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

বর্তমানে বাংলাদেশের এই জাতীয় সংকটে এগিয়ে এসেছেন মানবতার দূত হিসেবে, সরকারের দেয়া বিভিন্ন ত্রাণ সামগ্রী পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান সাহবের নির্দেশ পৌছে দিচ্ছেন গরীব ও অসহায় মানুষের দুয়ারে দুয়ারে। এছাড়াও নিজের থেকেও করছেন আর্থিকভাবে সাহায্য। তার কাছে গিয়ে কোন মানুষ খালি হাতে ফিরছেন না।

করোনা ভাইরাসের কারণে বিভিন্ন নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীর আয়ের মাধ্যম একরকম বন্ধ হয়ে আছে। ঠিক এই দুঃসময়ে গরীব অসহায় মানুষের পাশে এসে মানবতার পরিচয় দিয়েছেন কালুখালী থানার ওসি কামরুল হাসান। ১৮ মার্চ নিজ উদ্যোগে ৫২৮টি পরিবারের মাঝে চাল, ডাল, তেল, সাবান সহ নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী প্রদান করেন। যা সাধারণ জনতার কাছে খুশির ঈদ হয়ে ধরা দিয়েছে। সহায়তা পেয়ে একজন সহায়তা ভোগী খুশিতে কেঁদে দেন। তিনি বলেন, এতদিন পুলিশ মানেই ভাবতাম অত্যাচারী ঘুষখো। এমন দূর্দিনে যিনি অসহায় নিপিড়ীত মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করেছেন সেই ওসি কামরুল হাসান সাহেবের জন্য মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করি, তিনি যেন ওসি সাহেবকে নেক হায়াত দান করেন।

ওসি কামরুল হাসান জানান, এই থানার জন্য বরাদ্দকৃত সামগ্রী যদিও মানুষের জন্য যথেষ্ট না, কারণ দীর্ঘদিন এই সামগ্রী দিয়ে মানুষের চলবে না। তাই আমি নিজের বেতনের টাকা থেকে এবং আমার নিজস্ব আর্থিক তহবিল থেকেও যতটুকু পারছি মানুষকে মাত্র সাহায্য করার চেষ্টা করছি। কারণ এই বিপদের দিনে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের একান্ত দায়িত্ব।

এছাড়াও সরকার করোনা মোকাবিলায় সারাদেশের সমস্ত দোকান, হাট-বাজার বন্ধ ঘোষণা করার পরেই ওসি কামরুল হাসান নিজে দাঁড়িয়ে থেকে সমস্ত কিছু বন্ধ নিশ্চিত করেছেন। তিনি প্রতিদিন কালুখালির বিভন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে মানুষের মাঝে মাস্ক ও স্যানিটাইজেশন বিতরণ করছেন এবং মানুষের সচেতনতার জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করছেন।

এ বিষয়ে কালুখালি থানার অফিসার ইনচার্জ কামরুল হাসান বলেন, আমি সততার সহিত দায়িত্ব পালন করে, কালুখালি থানার পুলিশের যে বিগত দিনের বদনাম আছে তা দূর করতে চাই। পাশাপাশি দুর্নীতিমুক্ত, মাদকমুক্ত, বাল্যবিবাহ রোধসহ একটি মডেল থানায় রূপান্তর করতে চাই।

এছাড়াও তিনি বলেন, আমি জানি সাধারণ জনগণের জন্য পুলিশ হচ্ছে একান্ত বন্ধু। আমরা যদি অন্যায় ও দুর্নীতি করি তাহলে তারা কোথায় যাবে?? এইজন্যই আমি চাই আমার থানার প্রতিটি জনগণ যেন আমাদের বন্ধু মনে করে এবং বিপদের সময় আমাদের পাশে পায় সেইটা নিশ্চিত করতে।

নিউজটি শেয়ার করুন :

আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..