নতুন পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান নারায়ণগঞ্জে যোগদানের পর থেকেই বর্তমানে মাদক ও অবৈধ অস্ত্রের সন্ধানে মাঠে তৎপর রয়েছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। আর নারায়ণগঞ্জ শহরের ক্রাইমজোন হিসেবে পরিচিত জিমখানা-মণ্ডলপাড়া এলাকা। এ এলাকাটি ঘিরে পুরো শহরের মাদক কারবারি ও ছিনতাইকারীসহ সকল অপরাধের অন্যতম জোন হিসেবেই ব্যাপক পরিচিত। আর এ জোনের অন্যতম কর্ণধার হচ্ছেন ইমন চান ম্যাংগো ও আলমগং। ইতিপূর্বে ভাগবাটোয়ারাসহ পুরোনো হত্যাকাণ্ডের দ্বন্দ্বের জের ধরে নাসির নামের যুবককে হত্যাকারী প্রতিপক্ষ সন্ত্রাসী ইমন চান ম্যাংগো ও আলমগংদের এখনও পর্যন্ত গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।
ব্যাপক তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায় যে, নগরীর অন্যতম অপরাধ জগতের একটি স্থান হচ্ছে মণ্ডলপাড়া জিমখানা বস্তি এলাকা। এখানে চুরি-ছিনতাই, মাদক বিক্রিসহ এমন কোনো অপরাধ নেই যা হচ্ছে না। আর এ সকল অপরাধের অন্যতম গডফাদারের নাম হচ্ছে ইমন চান ম্যাংগো। এক সময়ে হরিজন সম্প্রদায়ে থাকা ম্যাংগো মুসলমান হয়ে যান পরিবারের সকল সদস্যদেরকে রেখে। ম্যাংগোর পিতা ৪ নং ডিআইটির চোলাই মদ বিক্রেতা শহিদ ডোম। তার বড়ভাই বিশ্ব ডোম। আর বর্তমানে ৪নং ডিআইটি বিএনপি ক্লাব সংলগ্ন এলাকায় চোলাই মদ ও ইয়াবা বিক্রি করছে শহিদ ডোমের ছোটভাই নয়ন ডোম। ইতিপূর্বে গ্রামের বাড়ি থেকে ঈদ উদযাপন শেষে চাষাড়ায় বাস থেকে নেমে জনি নামে এক যুবক ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে। তার কাছে থাকা মোবাইল ও টাকা ছিনিয়ে নেয় এবং ছুরিকাঘাতে জনিকে হত্যা করে। সেই ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ গোয়েন্দা পুলিশের একটি টিম সাগর ও বিশাল নামে দুইজনকে গ্রেফতার করে। জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে তা অবগত করেন পুলিশ সুপার। এ বিশাল হচ্ছে ম্যাংগোর আপন চাচাতো ভাই। সেই ঘটনায় পুলিশ মোবাইল ট্যাগ করে ম্যাংগোর চাচা নগরীর অন্যতম আলোচিত মাদক ব্যবসায়ী মিঠু চান ডোমকেও আটক করেছিল।
সেখানে বসবাসরত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক মানুষ জানান, এখানে ৪নং ডিআইটি এলাকায় ম্যাংগোর পিতা ও চাচাদের নিয়ন্ত্রণে চোলাই মদসহ ইয়াবার মতো মরণনেশাও বিক্রি করছেন। পাশাপাশি শেখ রাসেল পার্কের আশপাশ এলাকায় নতুনভাবে গড়ে তুলেছে মাদক বিক্রির বিশাল সিন্ডিকেট। আর এ সিন্ডিকেটের দায়িত্বে রয়েছেন ম্যাংগো ও আলম চানসহ তার সঙ্গীয়রা। জিমখানা, মণ্ডলপাড়া ও ডিআইটি এলাকায় মাদক বিক্রি, চুরি ও ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপকর্ম করতে কয়েকটি গ্রুপ তৈরি করেছে ম্যাংগো। এ গ্রুপের কোনো সদস্য যদি বিভিন্ন পন্থায় উপার্জিত অর্থ নিয়ে কোনো টালমাটাল করে তাহলে সুকৌশলে নাসিরের মতই সকলকে প্রাণ হারাতে হয়। তারা আরও জানান, একটি অপরাধ সংঘটিত করে নিজেদেরকে সাধু সাজাতে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের ভীতি প্রদান করে কৌশলে তার (ম্যাংগো) পক্ষালম্বন করে সাফাই গাইতে বাধ্য করে।
তারা আরও জানান, জিমখানা ও মণ্ডলপাড়া এলাকায় চোলাই মদ বিক্রি করে ঢাকা কেরানীগঞ্জ এলাকার কাউটাইল জাউলাপাড়া মাউরা বাড়িতে কয়েক কোটি টাকা সম্পত্তি করেছেন ম্যাংগোর পিতা শহিদ ডোম ও তার ভাইয়েরা। স্থানীয়দের দাবি, নগরীর জিমখানা ও মণ্ডলপাড়ার আশপাশে মাদকের সাম্রাজ্য চালিয়ে যুবসমাজকে ধ্বংস করে যে পরিমাণ অর্থের মালিক বনে গেছেন, তার পুরোটাই ব্যবহার করেছেন কেরানীগঞ্জ এলাকার কাউটাইল জাউলাপাড়া মাউরা বাড়ি এলাকায় বিশাল সম্পদ ক্রয়ে।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, এই ম্যাংগো বিগত দিন থেকেই বিভিন্ন প্রভাবশালীদের নাম ব্যবহার করে জল্লারপাড় থেকে শুরু করে আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় মাদক কারবার পরিচালনা করছে। তাছাড়া সে জিমখানা মাঠের সামনেই সবসময় আড্ডা দিয়ে থাকে। একাধিক লোক নিয়ে মোটরসাইকেল শোডাউন দিয়ে বেড়ায় এলাকায়। তাছাড়া জিমখানা মাঠ সংলগ্ন কয়েকটি স্পট পরিচালিত হয় এই ম্যাংগোর শেল্টারেই।
স্থানীয়দের মতে, জিমখানা-মণ্ডলপাড়াসহ আশপাশ এলাকায় মাদক বিক্রি, ছিনতাইসহ সারাদিন যাবতীয় অপরাধ করে বেড়ালেও রাত কাটায় কাওটাইল এলাকায়। আর ম্যাংগো চানের যাবতীয় অপরাধজগতটি একজন বড়ভাইয়ের নামের ওপর চলছে, যিনি বর্তমানে নারায়ণগঞ্জের একজন আলোচিত নেতা হিসেবেই ব্যাপক পরিচিত। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উক্ত এলাকার বাসিন্দারা বলেন, ম্যাংগো ও তার পরিবারের সদস্যরা নাকি থানা পুলিশকে প্রতিমাসে মোটা অংকের টাকা উৎকোচ দিয়ে ডিআইটি ও জিমখানা এলাকায় মাদকের বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে। যার ফলে মাঝে-মধ্যে চুনোপুটি ধরলেও অধরা থেকে যায় ম্যাংগো চান ও তার পরিবারের সদস্যরা।
বর্তমানে চলমান মাদক ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযানে জিমখানা-মণ্ডলপাড়াসহ আশপাশ এলাকাবাসীর আতঙ্কের নাম ম্যাংগো চানসহ তার সহযোদ্ধাদের গ্রেফতারে নবাগত জেলা পুলিশ সুপার ও র্যাবের সদয় হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...