পলাতক রাজ্জাকের ষড়যন্ত্রের ‘ফাঁদে’ পুলিশ!
  1. rakibchowdhury877@gmail.com : Narayanganjer Kagoj : Narayanganjer Kagoj
  2. admin@narayanganjerkagoj.com : Narayanganjer Kagoj : Narayanganjer Kagoj
পলাতক রাজ্জাকের ষড়যন্ত্রের ‘ফাঁদে’ পুলিশ!
মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:১৯ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
রাজ্জাকের ‘মাদক সাম্রাজ্য’ রক্ষায় পুলিশকে ফাঁসানোর অপচেষ্টা! ইসদাইরে মাদক নিয়ন্ত্রণে রাজ্জাক বাহিনী, বাড়ছে অপরাধ কালিহাতীতে মধুসূদন মোদকের বাড়িতে মাসব্যাপী মনসা পূজা বক্তাবলী থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা হত্যা মামলার আসামী রাব্বি গ্রেপ্তার পলাতক রাজ্জাকের ষড়যন্ত্রের ‘ফাঁদে’ পুলিশ! ফতুল্লায় বিএনপি পরিচয়ে ভূমিদস্যু দেলুর প্রতারণা সিদ্ধিরগঞ্জে স্বামীর বিশেষ অঙ্গ কাটলেন স্ত্রী! ফতুল্লা চাঁদনী হাউজিংয়ে পাগলা হামিদের ক্যাডার বাহিনী বেপরোয়া ফতুল্লার কোতালেরবাগে মাছের খামারে চাঁদা দাবিতে হামলার অভিযোগ ফতুল্লায় যুবলীগের সক্রিয় কর্মী লিটু গ্রেপ্তার ফতুল্লায় ১০পাতা হেরোইনসহ মোহন গ্রেপ্তার ফতুল্লায় তাঁতী লীগ নেতা ইপু গ্রেফতার ফতুল্লা থানায় সালিশকালে মারামারি, এএসআইয়ের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ঢাকায় সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা প্রতিনিধি সম্মেলনে বিএসপি নেতা টনি মল্লিকের যোগদান বক্তাবলীতে মাদ্রাসাছাত্র নিহত: ‘ধামাচাপা দিতে দরকষাকষির’ অভিযোগ

পলাতক রাজ্জাকের ষড়যন্ত্রের ‘ফাঁদে’ পুলিশ!

নারায়ণগঞ্জের কাগজ ডেস্ক
  • প্রকাশিত সময় : মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬
পলাতক রাজ্জাকের ষড়যন্ত্রের ‘ফাঁদে’ পুলিশ!
বামে ৫৩ রাউন্ড গুলিসহ রাজ্জাক ও ছেলে ওয়াসিম, ডানে রাজ্জাকের ছেলে জসিম ও তার সহযোগী মোহন পিস্তল-গুলিসহ গ্রেপ্তার।

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার ইসদাইর এলাকায় পুলিশের অভিযানে থাকা রাজ্জাককে ঘিরে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশের দাবি, পলাতক অবস্থায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিতর্কিত করতে তার সহযোগী আয়েশাকে দিয়ে একটি ফোনালাপ রেকর্ড করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ওই ফোনালাপে ফতুল্লা থানার এসআই নন্দন ও এসআই রফিকের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়েছে। তবে দুই পুলিশ কর্মকর্তা অভিযোগটিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও পরিকল্পিত অপপ্রচার বলে দাবি করেছেন।

সূত্রের দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই ফোনালাপে রাজ্জাক তার সহযোগী ও কথিত মাদক ব্যবসায়ী আয়েশার কাছে এসআই নন্দন ও এসআই রফিক সম্পর্কে জানতে চান। জবাবে আয়েশাকে ওই দুই কর্মকর্তাকে ছয় লাখ টাকা ঘুষ দেওয়ার দাবি করতে শোনা যায়। অভিযোগটি একবারের নয়, একাধিকবার ঘুষ দেওয়ার কথা ফোনালাপে বলা হয়েছে।

তবে এসআই নন্দন ও এসআই রফিকের দাবি, তাদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই ফোনালাপ তৈরি ও প্রচার করা হয়েছে। তারা বলেন, ইসদাইর এলাকায় রাজ্জাক ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান চলমান থাকায় তাদের বিতর্কিত করার অংশ হিসেবেই এ ধরনের প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে।

পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, গত ১৫ আগস্ট ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ রাজ্জাক ও ইসদাইরের অন্যান্য মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালায়। ওই অভিযানে কয়েকজনকে আটক করা হলে রাজ্জাক, তার ছেলে জসিমসহ অন্যরা পুলিশের ওপর হামলা চালায় এবং হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি ছোড়ে বলে তাদের দাবি। এতে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। আত্মরক্ষার্থে পুলিশ পাল্টা গুলি চালালে রাজ্জাকের ছেলে জসিম গুলিবিদ্ধ হয়। পরে তারা পালিয়ে যাওয়ার সময় জসিম ও মোহনকে পিস্তল ও গুলিসহ গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানান তারা।

এসআই নন্দন ও রফিকের ভাষ্য, ওই ঘটনার পর রাজ্জাক আরও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে এবং পলাতক অবস্থায় পুলিশকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে। তাদের দাবি, এরই অংশ হিসেবে রাজ্জাক তার সহযোগী আয়েশাকে ব্যবহার করে পরিকল্পিতভাবে ফোনালাপটি রেকর্ড করেন এবং সেখানে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়।

স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, ইসদাইর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সন্ত্রাসী ও অপরাধী চক্রের প্রভাব রয়েছে। এর মধ্যে রাজ্জাক ও তার ছেলেদের নিয়ে গঠিত অস্ত্রধারী একটি গ্রুপও রয়েছে বলে অভিযোগ। স্থানীয় পর্যায়ে মাদক ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে আধিপত্য বিস্তারের অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

সূত্রের দাবি, রাজ্জাকের বিরুদ্ধে ফতুল্লাসহ বিভিন্ন থানায় হত্যা, আগ্নেয়াস্ত্র, গুম, অপহরণ, মাদক ও চাঁদাবাজিসহ মোট ১২টি মামলা রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সবগুলোর বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না, তা প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

চলতি বছরের ২ এপ্রিল ইসদাইর এলাকার একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ৫৩ রাউন্ড গুলিসহ রাজ্জাক ও তার ছোট ছেলে ওয়াসিমকে (২২) গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ বলে জানা গেছে। এছাড়া সম্প্রতি গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গ্রেপ্তার হওয়া তার আরেক ছেলে জসিমকে ঢাকার বিমানবন্দর এলাকা থেকে দুটি আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছিল বলেও সূত্র জানিয়েছে। পরে জামিনে বের হয়ে রাজ্জাক ও তার পরিবারের সদস্যরা ফের অপরাধজগতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ফোনালাপের সত্যতা, এর প্রেক্ষাপট এবং এতে উত্থাপিত ঘুষের অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা অভিযোগ অস্বীকার করে এটিকে তাদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত অপপ্রচার বলে দাবি করেছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন :

আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..