রাজ্জাকের ‘মাদক সাম্রাজ্য’ রক্ষায় পুলিশকে ফাঁসানোর অপচেষ্টা!
  1. rakibchowdhury877@gmail.com : Narayanganjer Kagoj : Narayanganjer Kagoj
  2. admin@narayanganjerkagoj.com : Narayanganjer Kagoj : Narayanganjer Kagoj
রাজ্জাকের ‘মাদক সাম্রাজ্য’ রক্ষায় পুলিশকে ফাঁসানোর অপচেষ্টা!
মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:২২ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
রাজ্জাকের ‘মাদক সাম্রাজ্য’ রক্ষায় পুলিশকে ফাঁসানোর অপচেষ্টা! ইসদাইরে মাদক নিয়ন্ত্রণে রাজ্জাক বাহিনী, বাড়ছে অপরাধ কালিহাতীতে মধুসূদন মোদকের বাড়িতে মাসব্যাপী মনসা পূজা বক্তাবলী থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা হত্যা মামলার আসামী রাব্বি গ্রেপ্তার পলাতক রাজ্জাকের ষড়যন্ত্রের ‘ফাঁদে’ পুলিশ! ফতুল্লায় বিএনপি পরিচয়ে ভূমিদস্যু দেলুর প্রতারণা সিদ্ধিরগঞ্জে স্বামীর বিশেষ অঙ্গ কাটলেন স্ত্রী! ফতুল্লা চাঁদনী হাউজিংয়ে পাগলা হামিদের ক্যাডার বাহিনী বেপরোয়া ফতুল্লার কোতালেরবাগে মাছের খামারে চাঁদা দাবিতে হামলার অভিযোগ ফতুল্লায় যুবলীগের সক্রিয় কর্মী লিটু গ্রেপ্তার ফতুল্লায় ১০পাতা হেরোইনসহ মোহন গ্রেপ্তার ফতুল্লায় তাঁতী লীগ নেতা ইপু গ্রেফতার ফতুল্লা থানায় সালিশকালে মারামারি, এএসআইয়ের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ঢাকায় সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা প্রতিনিধি সম্মেলনে বিএসপি নেতা টনি মল্লিকের যোগদান বক্তাবলীতে মাদ্রাসাছাত্র নিহত: ‘ধামাচাপা দিতে দরকষাকষির’ অভিযোগ

রাজ্জাকের ‘মাদক সাম্রাজ্য’ রক্ষায় পুলিশকে ফাঁসানোর অপচেষ্টা!

নারায়ণগঞ্জের কাগজ ডেস্ক
  • প্রকাশিত সময় : বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬
রাজ্জাকের ‘মাদক সাম্রাজ্য’ রক্ষায় পুলিশকে ফাঁসানোর অপচেষ্টা!

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার ইসদাইর এলাকায় একের পর এক অভিযানে রাজ্জাক, তার ছেলে ও সহযোগী মাদক কারবারিদের গ্রেপ্তার এবং মাদকবিরোধী তৎপরতা জোরদার হওয়ায় অনেকটাই কোণঠাসা হয়ে পড়েছে একটি কথিত মাদকচক্র। অভিযোগ উঠেছে, এ পরিস্থিতিতে নিজেদের ব্যবসা ও প্রভাব ধরে রাখতে ফতুল্লা মডেল থানার কয়েকজন উপ-পরিদর্শকের (এসআই) বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যাচার, গুজব ও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

পুলিশের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, ইসদাইর এলাকায় রাজ্জাক ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনার কারণে মাদক ব্যবসা অনেকটাই গুটিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে সংশ্লিষ্টরা। আর সেই ক্ষোভ থেকেই পুলিশের অভিযানে থাকা কয়েকজন এসআইকে বিতর্কিত করে বদলী করানোর চেষ্টা চলছে। উদ্দেশ্য সফল হলে এলাকায় আগের মতো মাদক ব্যবসা চালানো সহজ হবে বলে- এমন আশঙ্কাও করছে পুলিশ।

সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, গত কয়েক মাসে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের একাধিক অভিযানে রাজ্জাক, তার ছেলেসহ বিভিন্ন মাদক বিক্রেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এসব অভিযানের কারণে ইসদাইর এলাকায় মাদক সরবরাহ ও বিক্রির নেটওয়ার্কে চাপ সৃষ্টি হয়েছে। ফলে দীর্ঘদিনের মাদক কারবারে ভাটা পড়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

পুলিশ সূত্র জানায়, সম্প্রতি কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ তুলে একটি ফোনালাপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। তবে সংশ্লিষ্ট এসআইরা অভিযোগটি অস্বীকার করে এটিকে পরিকল্পিত অপপ্রচার হিসেবে দাবি করেছেন। তাদের ভাষ্য, এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার হওয়ায় একটি পক্ষ পুলিশ সদস্যদের মনোবল ভেঙে দিতে এবং তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় বা প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবেশ তৈরি করতে এ ধরনের অপতৎপরতা চালাচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা জানান, কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে তদন্তের মাধ্যমে তার সত্যতা যাচাই করা সম্ভব। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফোনালাপ, গুজব কিংবা যাচাই-বাছাই ছাড়া নানা অভিযোগ ছড়িয়ে দিয়ে একজন কর্মকর্তাকে বিতর্কিত করার চেষ্টা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর স্বাভাবিক কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।

স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, ইসদাইর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন গ্রুপের আধিপত্য রয়েছে। রাজ্জাক ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে মাদক কারবারের পাশাপাশি অস্ত্র ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগও রয়েছে। পুলিশের ধারাবাহিক অভিযানে এসব কর্মকাণ্ডে বাধা সৃষ্টি হওয়ায় সংশ্লিষ্ট একটি পক্ষ নতুন কৌশলে পুলিশকে চাপে রাখার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১৫ আগস্ট ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ রাজ্জাক ও তার সহযোগীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালালে পুলিশের ওপর হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন বলে পুলিশ দাবি করেছে। পরে আত্মরক্ষার্থে পুলিশের পাল্টা গুলিতে রাজ্জাকের ছেলে জসিম গুলিবিদ্ধ হয় এবং পালিয়ে যাওয়ার সময় জসিম ও মোহনকে অস্ত্র ও গুলিসহ গ্রেপ্তার করা হয়।

এর আগেও চলতি বছরের ২ এপ্রিল ইসদাইর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫৩ রাউন্ড গুলিসহ রাজ্জাক ও তার ছোট ছেলে ওয়াসিমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। এছাড়া রাজ্জাকের আরেক ছেলে জসিমকেও আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেপ্তারের তথ্য রয়েছে।

পুলিশের দাবি, এসব অভিযানের পর থেকেই রাজ্জাক ও তার সহযোগীদের পক্ষ থেকে অভিযানে থাকা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নানা ধরনের অভিযোগ ও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। বিশেষ করে কয়েকজন এসআইকে বদলি করাতে পারলে এলাকায় আবারও আগের মতো মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নেওয়া সম্ভব হবে বলে- এমন একটি উদ্দেশ্য নিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।

তবে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ এবং পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগের বিষয়ে রাজ্জাক বা তার সহযোগীদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। একইভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ফোনালাপের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, পুলিশের কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে ঘুষ বা দুর্নীতির অভিযোগ থাকলে যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে তা প্রমাণিত হওয়া জরুরি। একই সঙ্গে মাদকবিরোধী অভিযানে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালিয়ে তাদের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন।

নিউজটি শেয়ার করুন :

আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..