নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১০ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত ঐতিহাসিক লক্ষ্মীনারায়ণ কটন মিলস দুর্গা মন্দির, পুকুর ও মাঠ দখলমুক্ত করে মন্দির পরিচালনা কমিটির কাছে হস্তান্তরের দাবিতে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবীরের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে বাংলাদেশ সনাতন পার্টি (বিএসপি) নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটি।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে জেলা প্রশাসকের হাতে স্মারকলিপি তুলে দেন বিএসপি নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি টনি মল্লিকসহ নেতৃবৃন্দ।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১০ নম্বর ওয়ার্ডে প্রায় ৪ বিঘা জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত শতবর্ষী লক্ষ্মীনারায়ণ কটন মিলস দুর্গা মন্দির, পুকুর ও মাঠ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। বিএসপির অভিযোগ, ২০১২ সাল থেকে শিল্পপ্রতিষ্ঠান নীট কনসার্ন গ্রুপ ওই সম্পত্তি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করে আসছে।
স্মারকলিপিতে আরও অভিযোগ করা হয়, দীর্ঘ ৮২ বছরেরও বেশি সময় ধরে ওই মন্দিরে ভক্ত ও শেয়ারহোল্ডাররা নিয়মিত পূজা-অর্চনা করে আসছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে যোগসাজশের মাধ্যমে মিলের সম্পত্তি দখলে নেওয়ার পর মন্দির প্রাঙ্গণে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রবেশাধিকার সীমিত করা হয় এবং পূজা-অর্চনাসহ ধর্মীয় কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায় বলে দাবি করেছে বিএসপি।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, ২০২৩ সালের ১৭ জুন প্রার্থনার স্থানটির স্মৃতিচিহ্ন গুঁড়িয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে একটি বুলডোজার দিয়ে ভাঙার চেষ্টা করা হয়। পরে সনাতন ধর্মাবলম্বী ভক্তরা প্রায় পাঁচ লাখ টাকা ব্যয়ে মন্দিরটি সংস্কার করেন। ওই সময় তৎকালীন পুলিশ সুপারের উদ্যোগে উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা হয় এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর পূজা পরিষদের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে মন্দিরের জমি বুঝিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরবর্তীতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা সম্ভব হলেও পূজা শেষে মন্দির প্রাঙ্গণ দখলমুক্ত করে মন্দির কমিটির কাছে বুঝিয়ে দেওয়ার আশ্বাস বাস্তবায়িত হয়নি বলে অভিযোগ সংগঠনটির।
এদিকে ২০২৪ সালে দুর্গাপূজার আগে মন্দিরের স্মৃতিচিহ্ন গুঁড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে বলে স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে পূজা শেষে মন্দিরের জমি স্থায়ীভাবে মন্দির কমিটির কাছে বুঝিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও এক বছর পেরিয়ে গেলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে দাবি বিএসপির।
সংগঠনটির অভিযোগ, মন্দিরে ভক্তদের প্রবেশাধিকার বন্ধ রাখার পাশাপাশি মন্দিরের জায়গায় বহিরাগতদের নিয়ে খেলাধুলার আয়োজন করে জায়গাটি দখলে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকেও অবহিত করা হয়েছে বলে স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়।
বারবার মন্দিরে হামলা, ভাঙচুর ও স্মৃতিচিহ্ন নষ্টের চেষ্টার অভিযোগে উপাসনালয়টির নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিএসপি। সংগঠনটির দাবি, আসন্ন ২০২৬ সালের দুর্গাপূজার আগেই মন্দিরের সীমানা নির্ধারণ করে জায়গাটি দখলমুক্ত করতে হবে। একই সঙ্গে মন্দিরটি সংস্কার করে ভক্তদের নির্বিঘ্নে প্রবেশ ও নিয়মিত পূজা-অর্চনার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।
স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, এবার ঐতিহাসিক লক্ষ্মীনারায়ণ কটন মিলস দুর্গা মন্দিরে ৮৩তম দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। দীর্ঘদিন ভক্তদের নিয়মিত পূজা-অর্চনার সুযোগ না থাকায় মন্দিরটি বর্তমানে জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। তাই দুর্গাপূজার আগেই মন্দিরের সীমানা নির্ধারণ, সংস্কার এবং স্থায়ীভাবে বিরোধের অবসান ঘটানোর দাবি জানানো হয়েছে।
এ সময় মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছাড়াও বাংলাদেশ সনাতন পার্টি নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর কমিটির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...