মেঘনায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন : হুমকির মুখে শতবর্ষী আনন্দবাজার
  1. rakibchowdhury877@gmail.com : Narayanganjer Kagoj : Narayanganjer Kagoj
  2. admin@narayanganjerkagoj.com : Narayanganjer Kagoj : Narayanganjer Kagoj
মেঘনায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন : হুমকির মুখে শতবর্ষী আনন্দবাজার
রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫, ০৩:৫০ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের উন্নয়নই বিএনপি নেতা শাহ্ আলমের মূল লক্ষ্য বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে হামলার মামলায় ফালান মুদি গ্রেফতার মাসুদের পাশে সর্বশক্তি নিয়ে থাকব : মাওলানা ফেরদাউসুর দেওভোগ এলাকায় রাসেল বাহিনীর দৌরাত্ম্য, আতঙ্কে এলাকাবাসী ফতুল্লায় তাঁতী দলের দুই নেতার জুয়া খেলার ভিডিও ফাঁস বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের দাওয়াতি মাসের কার্যক্রম উদ্বোধন দেওভোগ এলাকায় রাসেল গ্রুপের ত্রাস, সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপ দাবি নারায়ণগঞ্জের শ্রেষ্ঠ ওয়ারেন্ট তামিলকারী অফিসার আবুল কালাম আজাদ খালেদা জিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে শাহ আলমের উদ্যোগে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প দুঃসময়ে দলের হাল ধরেছিলেন বেগম খালেদা জিয়া : সানি বেগম খালেদা জিয়ার ৮০তম জন্মবার্ষিকীতে মহানগর বিএনপির দোয়া খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকীতে জাকির খানের দোয়া নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে প্রস্তুত শাহআলম শহীদদের স্মরণে গোপালনগর পশ্চিমপাড়া একতা সমাজকল্যাণ সংঘের উদ্যোগে দোয়া ফতুল্লায় মামলা তুলে নিতে বাদীকে হুমকি

মেঘনায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন : হুমকির মুখে শতবর্ষী আনন্দবাজার

নারায়ণগঞ্জের কাগজ ডেস্ক
  • প্রকাশিত সময় : মঙ্গলবার, ১ অক্টোবর, ২০১৯
মেঘনায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন : হুমকির মুখে শতবর্ষী আনন্দবাজার

নারায়ণগঞ্জের কাগজ : নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মেঘনা নদীতে ইজারা ছাড়াই প্রকাশ্য দিনে ও রাতে চুরি করে প্রায় ৮/১০টি শক্তিশালী ড্রেজার বসিয়ে মেঘনা নদীর রান্দীর খালের মাথায় থেকে বালু উত্তোলন করে নিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বৈদ্যের বাজার ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ইসমাইল হোসেন তার ছেলে রকি, আলামিন, ওয়াজকরনী ওরফে উক্কু, ,শফিক, মোঃ শামীম, দেলোয়ার, এবং ভ্রামমান আদালতের তিন মাস কারাভেগের পর ফারুক আবারো বালু উত্তোলনের সাথে জড়িয়ে পড়ছে। এতে করে শতবর্ষী আনন্দ বাজার বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

বর্তমানে মালিগাঁও, হাড়িয়া, গোবিন্দি হাড়িয়া বৈদ্যেপাড়া সোনামুইসহ কয়েকটি গ্রামটি হুমকির মুখে পড়েছে। এছাড়াও মেঘনা নদীর তীরে অবস্থিত আমান ইকোনমিক জোন হুমকির মুখে রয়েছে। অনেকে বলেন, নব্য আওয়ামীলীগার জামাই নবী হোসেন ও শ্বশুর ইসমাইল মেম্বার শেষ করছে আনন্দবাজারকে, অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন করে।

নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁ উপজেলার আনন্দবাজার এলাকার দির্ঘ দিন ধরে ভালু উত্তোলন করছেন স্থানীয় বালু সন্ত্রাসীরা। শতবছরের ঐতিহ্যবাহী আনন্দবাজার হাট ধ্বংসের পথে। আনন্দবাজারের তীর ঘেষে বালি উত্তোলনের ফলে এ বাজারের ব্যবসায়ীরা বিপাকে পরছে। বাঁশ মুলি বিক্রি করতে তাদের কষ্ট হবে বলে অনেকে জানায়।

কারণ হিসাবে ব্যবসায়ীরা জানান, নদী পথে আগে বাঁশ মুলি আনতে খুব সহজ হত এখন খুব কষ্ট হবে। চরা জায়গায় বাঁশ মুলি আনানেওয়া ও বিক্রি করতে সহজ হত। বাজারের কিনার কাটার ফলে নদীতে প্রচুর ঢেউ দেখা যায়। যার ফলে ক্রেতা আসে কম।

অন্য এক ব্যবসায়ী জানায়, যে ভাবে বালি কাটা শুরু করেছে মনে হয় এ বাজার আর টিকবে না, সরকার এর কোন ব্যবস্থা না নিলে। স্থানীয় বালু সন্ত্রাসীরা হল যুবলীগের বৈদ্যারবাজার ইউনিয়ন পরিষদরে সভাপতি নবী হোসেন, তার ভাই নজরুল ইসলাম, নুরু ডাকাতের ছেলে আমির হোসেন, আলামিন রোস্তমের ছেলে রনি, ছাত্র সমাজের রিয়াত, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহাদাত হোসেন মেম্বার, আওয়ামী লীগ নেতা কালাম, গোলজার, আলা উদ্দিন, হাসনাত, বাবুর আলী, মোতালেব মিয়া, মোবারকপুরের আউয়াল, সানাউল্লাহ, গাজী আবু তালেবের ছেলে আওলাদ, হারিয়ার, গাজী হামিদুল, ইউনিয়ন পরিষদের আব্দুর রউফ চেয়ারম্যানের ছেলে মোহাম্মদ আলী, জাতীয় পার্টির নেতা মোহাম্মদের আলী মেম্বার, বাসেদ মেম্বারের ছেলে আলমগীর, আবদুল আলী মেম্বার। জাতীয় পার্টি, আওয়ামী লীগ নেতা আবু নাইম ওরফে বালু ইকবাল। বিএনপি নেতাদের নিয়ে গঠিত সিন্ডিকেট ও বালু ইকবালরা বালু মহাল নিয়ন্ত্রন করছে। প্রশাসন টাকার ভাগ পেয়ে চুপ রয়েছে।

প্রতিদিন রাতে ও দিনে মেঘনা নদীর হাড়িয়া বৈদ্যেপাড়া এলাকার সোনামুই এলাকায় চুরি করে বালু কেটে নিয়ে যাচ্ছে বালু উত্তোলনকারীরা। এছাড়াও নুনেরটেক ও নলচর এলাকায় মেঘনা উপজেলার চালিভাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মিয়ার নেতৃত্বে ইউপি সদস্য আবদুর রহমান।

অভিযোগ উঠেছে, উপজেলার বৈদ্যোরবাজার ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ইসমাইল হোসেন তার ছেলে রকি ও কেন্দ্রীয় যুবলীগের সদস্য রোবায়েত হোসেন শান্ত একটি সিন্ডিকেট করে সোনামুই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে দলের নাম ভাঙ্গিয়ে বালু উত্তোলন করছে। এসব বালু উত্তোলনকারীদের দাপটে অনেকটা কোনটাসা হয়ে পড়েছে প্রশাসনও। প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা।

সোনারগাঁয়ের সোনামুই, গোবিন্দি এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গ্রামবাসী জানান, ইসমাইল হোসেন মেম্বার ও তার ছেলে মাদক সম্রাট রকির নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের সাথে আঁতাত করে মেঘনা নদী থেকে প্রতিদিন অবৈধভাবে লাখ লাখ ঘনফুট বালু উত্তোলন করে প্রতিদিন গড়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। সোনামুই মৌজায় মেঘনা নদীতে অন্তত ৮-১০টি শক্তিশালী ড্রেজার দিয়ে বালু তোলা হচ্ছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, নুনেরটেক এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে সোনামিয়া, রমজান আলী, আমির, দুদু মিয়া, আব্দুর রহিম, তোতা মিয়া, লতিফ মিয়া, সামসুল হক, শামসুদ্দিন, আব্দুর রশিদ, রমু মিয়া, আলমাছসহ ২০জনের বাড়িঘর নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। রঘুনারচর, গুচ্ছগ্রাম, সবুজবাগ ও আশপাশ এলাকার শতাধিক পরিবার এলাকার ৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান হুমকির মুখে রয়েছে। বালু উত্তোলন বন্ধ করা না গেলে কোনোভাবেই ভাঙন রোধ করা যাবে না।

সরেজমিনে মেঘনা নদীতে গতকাল সোমবার দুপুর গিয়ে দেখা যায়, মেঘনা নদীর সোনামুই, আনন্দবাজার এলাকা ও আমান ইকোনমিক জোনের পাশে ২০-৩০টি শক্তিশালী ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন চলছে। বালু উত্তোলনের কাছে প্রায় ২০-২৫টি বাল্কহেড বালু নেওয়ার জন্য ভীড় জমিয়েছে। এলাকায় একটি ট্রলার যোগে লাঠিসোটা নিয়ে পাহাড়া দিচ্ছে বালু উত্তোলনকারীদের সন্ত্রাসী বাহিনী।

অভিযুক্ত বৈদ্যের বাজার ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ইসমাইল হোসেন জানান, মেঘনা নদী থেকে এখন আর বালু উত্তোলন করি না।

সোনারগাঁও উপজেলা নির্বাহী অফিসার অঞ্জন কুমার সরকার জানান, বালু উত্তোলনের বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন :

আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..